• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২ আগস্ট, ২০২২
সর্বশেষ আপডেট : ২ আগস্ট, ২০২২

নানিয়ারচরে দক্ষিণ হাতিমারায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালিত

অনলাইন ডেস্ক
IMG 20220802 180432 | Dainik Naniarchar

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ-

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন মাপকাঠিতে বাংলাদেশ বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে। উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং টেকসই করতে হলে টেকসই সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই। আর টেকসই আইনশৃঙ্খলার জন্য জনগণের সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা অত্যাবশ্যক।

পুলিশকে গণমুখী ও জনবান্ধব করার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে সাদুবাদ জানাচ্ছে সাধারণ জনতা।

পাহাড়ে আইনগত পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতার মাঝে এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে পুলিশের ভূমিকাকে আরও উজ্জ্বল করেছে এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থার সংকট কাটিয়ে পুলিশ-জনতা সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সরকারের উদ্যোগে জনবল বৃদ্ধির পর যদিও পুলিশ-জনতা অনুপাত এখনও আন্তর্জাতিক মানের অনেক পেছনে; তবুও নিঃসন্দেহে বলা যায়, বর্তমানে পুলিশের সক্ষমতাও অনেক বেড়েছে।

মঙ্গলবার (২ আগষ্ট) সকালে হাতিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ে আয়োজিত সভায় নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ সুজন হালদার জানান,পাহাড়ের দূর্গমে নবগঠিত বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট (যেমন- নৌপুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ইত্যাদি) পুলিশের প্রধান সেবাদান কেন্দ্র (Service Delivery Unit) হিসেবে থানার বর্ধিত জনবলের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে দৃষ্টি গোচর হয়েছে।

আমরা পুলিশকে কীভাবে জনমুখী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা যায়, শুধু নানিয়ারচর নয় পাহাড়ে জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে প্রতিটি প্রত্যন্ত এলাকাতে কীভাবে পুলিশের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে, পুলিশের কার্যক্রমে কীভাবে আরও গতি আনা যায় এবং সর্বোপরি বিদ্যমান জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহারের নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পুলিশের কার্যক্রমকে কীভাবে আরও গতিশীল করা যায় এসব বহুমুখী প্রশ্নের সমাধানের পথ হচ্ছে সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং কার্যক্রম।

তিনি আরো বলেন,বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে শহর এলাকায় নিবিড় পুলিশিং সম্ভব হয়। বাংলাদেশের বিশাল বিস্তৃত গ্রামাঞ্চলে নিবিড় পুলিশিংয়ের কোনো পদ্ধতি এখনও প্রচলিত নেই। বর্তমানে থানাগুলোর জনবল কাঠামো ও ইউনিয়ন সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিট পুলিশিংয়ের কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা সম্ভব।

নানিয়ারচরে পুলিশি সেবা জনগণের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছানো এবং পুলিশের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও গণমুখী করার প্রত্যয় নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে এমনকি দূর্গমের এলাকাগুলোতে বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করছি যাতে করে কোন ভেদাভেদ থাকে না।

অনেক ক্ষেত্রেই থানার অধিক্ষেত্র অনেক বড় ও যাতায়াত ব্যবস্থাও দুর্গম। থানার অধীনে অনেক ক্ষেত্রে একটি তদন্ত কেন্দ্র বা ফাঁড়ি রয়েছে। অনেক ইউনিয়ন রয়েছে যেগুলো থানা থেকে দুর্গম এলাকায় অবস্থিত এবং যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো নয়,সেখানে স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে আমারা বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করছি।দূরবর্তী এলাকার জনগণ খুব প্রয়োজন না হলে থানায় তেমন একটা আসেন না। আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব না হলে অথবা মামলার ঘটনাস্থল না হলে থানা থেকে পুলিশ সেসব এলাকায় নিয়মিত টহল বা অন্যবিধ প্রয়োজনে খুব একটা যেতে উৎসাহী হন না।ফলে জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব তৈরি হয় যা থেকে জন্ম নেয় অবিশ্বাস, আস্থাহীনতা ও ভুল বোঝাবুঝির। কমিউনিটি পুলিশিংসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও ভৌগোলিক দূরত্ব ও সুনির্দিষ্ট কাঠামোবদ্ধ কর্মসূচির অভাবে এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মাত্রার অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

এছাড়া পুলিশের অনিয়মিত উপস্থিতির সুযোগে অপরাধীরাও সক্রিয় হয়ে ওঠে। গ্রাম্য টাউট ও দালালদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পায়। এলাকা থেকে অপরাধ, অগ্রিম গোয়েন্দা তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। পুলিশের নজরদারি হ্রাস পায়।এ অবস্থায় সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বর্ণিত সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষা, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, নারী-শিশুদের কল্যাণ ও
চোরাচালান নিরোধ করা সম্ভব এ সভায়।সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং কার্যক্রমে থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেফতার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি থানার প্রতিটি প্রান্তে নিবিড় পুলিশিং নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হয়।

ফলে একদিকে যেমন পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উপকৃত হচ্ছে অন্যদিকে পুলিশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হচ্ছে। সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং থেকে নিুলিখিত সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে।

পুলিশের সঙ্গে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠবে। পুলিশ-জনগণের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পাবে।

প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী জনগণ তাদের প্রয়োজনে সহজেই পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করতে পারবেন।

জনগণ তাদের সমস্যাবলি খুব সহজেই পুলিশকে জানাতে এবং প্রতিকার চাইতে পারবেন। এজন্য ১৫-২০ কিলোমিটার পথ ভ্রমণ করার প্রয়োজন পড়বে না।

ইউনিয়ন পর্যন্ত পুলিশের উপস্থিতির কারণে এলাকায় অপরাধ, মাদকের ব্যবসা ও ব্যবহার, জঙ্গিদের হুমকি, নারী ও শিশুদের প্রতি অপরাধ প্রবণতা (যেমন- ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে) হ্রাস পাবে।

বিট কর্মকর্তা স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় স্থানীয় পর্যায়ের ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হবেন। যার মাধ্যমে সমাজে নাগরিকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে।

নিজ নিজ বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছেই পুলিশের উপস্থিতি থাকায় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ (Sense of Security) বিরাজ করবে এবং মানুষ অনেকটা আশ্বস্ত থাকবে।

পুলিশ কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের অপরাধ চিত্র, অপরাধীদের তথ্য, অগ্রিম গোয়েন্দা তথ্য, নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ গণতান্ত্রিক পুলিশিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরাসরি সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। এলাকার টাউট, দালাল, প্রতারক, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাস্তানদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পাবে। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম শক্তিশালী হবে। থানায় মোতায়েনকৃত জনবলের সর্বোত্তম ব্যবহার সম্ভব হবে।

এসময় অত্র বুড়িঘাট ০৬নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আবু হানিফ ও স্থানীয় মেম্বার মিজানুর রহমানসহ সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

  • নানিয়ারচর এর আরও খবর
%d bloggers like this: