• ঢাকা
  • সোমবার, ৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২২
সর্বশেষ আপডেট : ৭ জুলাই, ২০২২

২০ বছর পর ঘাগড়া কলেজ এমপিও ভুক্ত, দীপংকর তালুকদারের প্রতি  ঘাগড়াবাসীর কৃতজ্ঞতা।

অনলাইন ডেস্ক
| Dainik Naniarchar

কাউখালী প্রতিনিধি ঃ

চারিদিকে পাহাড় ঘেরার মাঝখানে দুই দিকে আনসার ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর ও ঘাগড়া সেনাক্যাম্প। পাহাড়ের পাদদেশে এই রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলাধীন ঘাগড়া ইউনিয়নের চম্পাতলী এলাকায় অবস্থিত ঘাগড়া কলেজ।
দীর্ঘ ২০টি বছর অতিক্রম করে শত ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের পেছনে সময় না দিয়ে শুধুমাত্র জাতির বিবেকের দিকে তাকিয়ে শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার আলো ছড়াতে বিন্দুমাত্র সময় অবক্ষেপন না করে৷ নিরলস কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার মধ্যে দিয়ে ঘাগড়া কলেজটি এমপিও অনুমোদনের জন্য দিনরাত অফিস, এমপি, মন্ত্রীদের পিছনে কাজ করাসহ সব কিছু সহ্য করেই একাধারে শিক্ষক ও এলাকাবাসীকে নিয়ে দিনের পর দিন ছুটোছুটি করে আজ সেই ঘাগড়া কলেজের অধ্যক্ষ শ্যামল মিত্র চাকমা ঘাগড়া কলেজটিকে এমপিও চুড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তার এই দীর্ঘ ২১টি বছর ধৈর্য্য, সহ্য ও সাধনা করে কষ্টের ভার বাস্তবায়ন ও স্বপ্ন পুরন হয়েছে। পাশাপাশি ঘাগড়াবাসীদের কলেজটি এমপিও ভুক্ত চুড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পুরন হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৬ জুলাই) রাতে ঘাগড়া কলেজের অধ্যক্ষের সাথে ফোনে কথা হলে এ প্রতিবেদককে জানান, ২০০১ সালে ঘাগড়া কলেজটি বিগত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে পার্বত্য শান্তি চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রথম পার্বত্য মন্ত্রী হিসেবে সুপরিচিত প্রয়াত কল্পরঞ্জন চাকমা ভিত্তিপ্রস্তর করেন। তারই প্রেক্ষিতে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার ২০০২ সারে কলেজের দালানকোঠা গড়ে তোলেন। কলেজের সবকিছু সম্পন্ন হলে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করে  বিভিন্ন সেকশনে শিক্ষকসহ অন্যান্য বিভাগে লোকবল নিয়োগ দেয় কলেজ কমিটি। সেই থেকে কলেজের ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়।
তিনি আরো বলেন, ঘাগড়া কলেজের কোড নং (EIIN NumberNumber: 107717)। বর্তমানে কলেজের প্রায় ৬০০ জনের অধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। কলেজে সবাই মিলে ১৭ জন শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত আসেন ৭/৮ জন। বাকিরা অনিয়মিতভাবে আসেন। তবে কিছু শিক্ষক কেউ এক বছর কেউবা দুই বছরের বেশি সময় ধরে আসছেন না। এর কারণ শিক্ষকরা কোন বেতন বা সম্মানি পান না। এভাবে ঘাগড়া কলেজের পাঠদান চলছে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের এ কলেজে বর্তমানে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শাখা রয়েছে। আশা করছি এখন সেই সংকট থাকবে না। নিয়মিত পাঠদানসহ ছাত্র শিক্ষকরা পড়াশুনায় মনোযোগী হয়ে উঠবে।
বিগত ২০০১ সালে ঘাগড়া কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা প্রয়াত রাঙা চান চাকমা কলেজের জন্য ১ একর ৪২ শতক জমি দান করেন। পরে রাঙামাটি জেলা পরিষদ ওই জমির ওপর তিনতলা ভবন নির্মাণ করে দেয়। ২০০২ সালে ১৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।
ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পুর্ণ্যধন চাকমা দেশবাংলাকে বলেন, গতকাল ৬ জুলাই ঘাগড়া কলেজের এমপিও ভুক্ত চুড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় আমি খুব হয়েছি। কেননা, দীর্ঘ ২০টি বছর শিক্ষকরা বিনা বেতনে  শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠদান করেছেন। আশাবাদী এখন ছাত্র শিক্ষকরা হতাশায় আর অনিশ্চিত জীবন ভুগবেন না। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এবারে রাঙামাটি জেলাতে ঘাগড়া কলেজ ও বরকল কলেজকে এমপিও ভুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন

  • রাঙ্গামাটি এর আরও খবর
%d bloggers like this: